ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা BCCI শুভমান গিলকে দেশের টেস্ট ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সম্প্রতি রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর এই পরিবর্তন এসেছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে গিল ভারতের ৩৭তম টেস্ট অধিনায়ক হলেন, যা দলের নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।
গিল এই দায়িত্ব পাওয়ার পর বলেছেন, “যখন একজন ছোট ছেলে ক্রিকেট শুরু করে, তখন তার স্বপ্ন থাকে ভারতের হয়ে খেলা। শুধু খেলা নয়, দীর্ঘ সময় টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা। এই সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মান এবং একটি বড় দায়িত্ব।”
২০২০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে শুভমান গিল ৩২টি ম্যাচে ৩৫.১ গড়ে ১,৮৯৩ রান সংগ্রহ করেছেন। তার সংগ্রহে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি এবং সাতটি ফিফটি। তিনি ওপেনিং এবং তৃতীয় নম্বরে ব্যাটিং দুটোকেই সফলভাবে সামলিয়েছেন।
আগামী ইংল্যান্ড সফরের জন্য পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ঋষভ পন্থকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে। এই সিরিজ শুরু হবে ২০ জুন, ২০২৫ সালে লিডসের হেডিংলি মাঠে। এই সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৫-২৭ সালের আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র।
সিরিজের অন্যান্য ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বার্মিংহামের এজবাস্টন, লন্ডনের লর্ডস, ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ড এবং লন্ডনের দ্য ওভালে।
নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগারকার বলেছেন, “কোনো অধিনায়ককে এক বা দুই সফরের জন্য নির্বাচিত করা হয় না। আমরা এমন কাউকে খুঁজছি যিনি দীর্ঘমেয়াদে দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন। শুভমান একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং আমরা তার জন্য শুভকামনা জানাই।”
শুভমান গিলের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে এবং আইপিএলে গুজরাট টাইটানসের অধিনায়ক হিসেবে। তার শান্ত স্বভাব এবং পরিপক্বতা দলের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইংল্যান্ড সফরের দলে নতুন মুখ হিসেবে যোগ দিয়েছেন করুণ নায়ার, সাই সুদর্শন এবং শার্দুল ঠাকুর, যা টেস্ট দলে নতুন প্রজন্মের আগমন নির্দেশ করছে।
এই নতুন সময়ে ভারতীয় টেস্ট দল কীভাবে গিলের নেতৃত্বে সাফল্য অর্জন করে এবং ইংল্যান্ডের কঠিন সিরিজে কেমন খেলতে পারে, সেটাই এখন সকলের নজর কাড়ছে।

0 মন্তব্যসমূহ