ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি (FIFA World Cup Trophy) :
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির অনেক অজানা ইতিহাস রয়েছে । আর আমরা অনেকেই ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির অজানা সব নাটকীয় ও বর্ণিল ইতিহাস জানি না । আসুন আমরা আজ সেটাই জানার চেষ্টা করবো ।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পুরস্কারটির নাম এটিকে মূলত "ভিক্টোরি" নামকরণ করা হলেও সর্ব-সাধারনে বাংলা ভাষায় "বিশ্বকাপ" বা ফরাসি ভাষায় "কোউপ ডু মোন্ড" {Coupe du Monde} নামে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত পরিচিত ছিলো, যা ১৯৪৬ সালে ফিফার সাবেক সভাপতি জুলে রিমের স্মরণে পুনরায় 'জুলে রিমে ট্রফি' নামে নামকরণ করা হয়।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির মুল্য ক্রিরাজগতে বর্তোমানে সবচেয়ে বেশি। করন এই ট্রফি তৈরি করতে খরচ হয়েছিলো ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪,৩৫০,০০০ টাকা এবং বর্তোমানে এর মুল্য ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭৪,০০০০০০০ টাকা। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৩০ সাল থেকে আর এই ১৯৩০ থেকে ২০২২ গতো ৯২ বছোরে বিশ্বকাপ ট্রফির নানা ভবে নাম বদলিয়েছে, হারিয়েছে, চুরি হয়ে গেছে । ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির ইতিহাস 2 ভাগে ভাগ করা জায়। একটা জুলে রিমে ট্রফি যা আদি নাম পরিচিতো আর একটা বিশ্বকাপ ট্রফি যা এখন বর্তোমানে দেওয়া হয় বিশ্বকাপ জয়ী দলকে। আর এটি তৈরি কোরেছিলেন একজন ফরাসি ভাস্কর জার নাম ছিলো আবেল লাফলেউর ।
ট্রফিটি ছিল 35 সেন্টিমিটার উচ্চতা, কিন্তু এই ট্রফির উচ্চোতা ১৯৫৪ সালের পরবর্তীতে কিছুটা বৃদ্ধি করা হয় । যাতে জয়ী দলকে নিয়ে কিছু লেখা যায় । আর এর ওজন 3.8 কেজি এবং সোনার ধাতুপট্টাবৃত স্টার্লিং সিলভার দিয়ে তৈরি, যার একটি নীল বেস আধা-মূল্যবান পাথর (ল্যাপিস লাজুলি) ছিল। বেসের চার পাশে চারটি সোনার প্লেট ছিল, যার উপরে ট্রফি বিজয়ীদের নাম লেখা থাকবে।যেহেতু ট্রফিতে বিজয়ীদের নাম লেখা থাকবে সেহেতু্ে এই ট্রফিতে প্রথম যে দলের নাম লেখা হয়ছিলো সে দলটি ছিলো উরুগুয়ে। কারন আমরা জানি 1930 সালে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এবং সে বিশ্বকাপে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম আসরে তারা চ্যাম্পিয়ন হইছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ট্রফিটি ছিলো ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালী দলের নিকটে। জার্মানির নাৎসি বাহিনীর হাত থকে ট্রফিটিকে রক্ষা করার জন্য ফিফার সহ-সভাপতি ও এফআইজিসি-এর সভাপতি ইতালীর অধিবাসী অট্টোরিনো বারাস্সি খুব সন্তর্পনে এটিকে একটি ব্যাংক থেকে তুলে রোমে নিয়ে যান এবং একটি জুতার বাক্সের ভেতরে ভরে তার নিজের বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চার মাস আগে ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ তারিখ ওয়েস্টমিনিস্টার সেন্ট্রাল হলে আয়োজিত একটি উম্মুক্ত প্রদর্শনী থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। মাত্র সাতদিন পর খবরের কাগজে মোড়ানো অবস্থায় এটি পিকেল্স নামক একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের আপার নরউড অঞ্চলের শহরতলীর বাগানের পার্শ্বস্থ এলাকা থেকে উদ্ধার করে।
ব্রাজিল ১৯৭০ সালে তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করার পর এটি তাদেরকে স্থায়ীভাবে দিয়ে দেয়া হয়। এটিকে রিও ডি জেনিরো-তে অবস্থিত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তরে একটি তাকিয়ায় সাজেয়ে রাখা হয় যার সম্মুখভাগ বুলেট প্রুফ কাচ দ্বারা নির্মিত। ১৯৭০ সাল ছিলো জুলে রিমের ট্রফির শেষ বিশ্বকাপ ।
১৯ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে কাঠের অংশটি ভেঙ্গে কাপটি পুনরায় চুরি হয়ে যায়, চার ব্যক্তিকে দায়ী করা হয় এবং জেরা করা হয় কিন্তু ট্রফিটি আর পাওয়া যায়নি। ২০১৫ সালে জুলে রিমের ট্রফির কেবল তলার বেসটি জুরিখের সদর দপ্তোরে খুজে পাওয়া যায় বেজ মেইন্টে। সেখানে 1930 থেকে 1950 সালের জয়ী দোলগুলোর নাম লেখা আছে। 2015 সালে ফিফা জাদুঘর এর Creative Director ডেভিড ওসিল এই কথা বলেন।
১৯৭৪ থেকে নতুন বিশ্বকাপ ট্রফি দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করা হয় । আর সেই ট্রফির ডিজাইন এর জন্য ৭ টি দেশ থেকে ৫৩ জন ভাষ্কর নতুন ট্রফি এর ডিজাইন জমা দিয়েছিলেন. তাদের মধ্যে থেকে ইতালিয়ান শিল্পী সিলভিও গাজানিগার দেয়া ডিজাইনটি মনোনীত হয় বিশ্বকাপ ফুটবল ট্রফির জন্য ।এই ট্রফিটি 14.5 ইঞ্চি লম্বা এবং ওজন 6 কেজি এর একটু বেশি। ট্রফির গায়ে ইংরেজি হরোফে লেখা আছে Fifa World Cup । ১৯৯৪ সালে ট্রফির তলাই একটি প্লেট লাগানো হয় যেখানে জয়ি দলের নাম লেখা হয় এবং ট্রফিটি কোথাও বসালে এই নামগুলি দেখা যায় না।এই ট্রফিটি এখন জুরিখের Fifa World Football জাদুঘরে থাকে । শুধুমাত্র ফিফা বিশ্বকাপ সফর, বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান, বিশ্বকাপের শুরুর দিন এবং বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নেওয়া হয়। বিশ্বকাপ ফুটবল একটা বৈশ্বিক ইভেন্ট । যাকে Greatest Show On Earth বলা হয় । যার অর্থো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী । আর এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নেওয়া হয় প্রদর্শনীর জন্য । যার অংশো হিসেবে একাধিক বার বাংলাদেশেও এসেছে এই বর্তোমান বিশ্বকাপ ট্রফিটি ।এবারের বিশ্বকাপের সব আনুষ্ঠিকতা প্রায় শেষের পথে।
এ বছোরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিশ্বের অগনিতো সকল ফুটবল ভক্তোদের চোখ থাকবে কাতারে। যেখানে 32 টি দেশ লরাই করবে এই ট্রফি বিজয়ের জন্য ।

0 মন্তব্যসমূহ