Sponsored

"মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার কি টিকবে? জানুন কেন অনিশ্চয়তা ঘিরে আছে"


২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তাঁর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে উত্তেজনা

২০২৪ সালের জুলাই থেকে দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গণবিক্ষোভের জেরে পরের মাসে শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে অপসারিত হন। সেই সময় বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকে, বহু থানায় পুলিশ সদস্যরা অনুপস্থিত থাকেন ও জনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী মোতায়েন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

যদিও গত আগস্টের মাঝামাঝি পুলিশ আবার কার্যক্রম শুরু করেছে, তারপরও দেশে চলমান অস্থিরতার কারণে বেসামরিক-সামরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে।

গত বুধবার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান খোলাখুলি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, সেনাবাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে বেসামরিক কাজে নিয়োজিত রাখলে তা দেশের প্রতিরক্ষা দুর্বল করতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ

বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করছে। তারা অভিযোগ করছে, ইউনূস প্রশাসন সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্ব করছে। এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল বলছে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জন

সম্প্রতি গুজব ছড়িয়েছে যে, মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের কথা ভাবছেন। যদিও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা এই গুজব অস্বীকার করেছেন, তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইউনূস রাজনৈতিক চাপের কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন মনে করছেন।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা, রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ