Sponsored

যেনে নিন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের শুরুর ইতিহাস। প্রথম বিশ্বকাপ কিভাবে শুরু হলো?

যেনে নিন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের শুরুর ইতিহাস

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে The Greatest Show On Earth বলা হয়। যার অর্থো দারায় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী । আর আমরা অনেকেই ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ইতিহাস জানি না । আসুন আমরা আজ সেটাই জানার চেষ্টা করবো ।


উৎপত্তি

১৯০৪ সালে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই ফিফার কমিটি অলিম্পিকের মতো ভিন্ন একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সুইজারল্যান্ডে ১৯০৬ সালে । কিন্তু এই প্রতিযোগিতাটি ছিলো পুরোপুরি ব্যর্থ। আর এর কারন আন্তর্জাতিক ফুটবলের তখন ছিলো শৈশব কাল তার মানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বয়স ছিলো তখন অনেক কম এবং হয়ত একারণেই ফিফা এই প্রতিযোগিতাকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়েছে। স্যার থমাস লিপটন ১৯০৯ সালে তুরিনে স্যার থমাস লিপটন ট্রফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। যদিও এটি দেশভিত্তিক প্রতিযোগিতা ছিল না এটি ছিলো ক্লাবভিত্তিক, তবে প্রতিটি ক্লাব ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিল, এজন্য এই প্রতিযোগিতাকে অনেকে প্রথম বিশ্বকাপ বলে থাকেন। এতে ইতালি, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা পেশাদার দলগুলো অংশ নিয়েছিলো।


১৯১৪ সালে, ফিফা কমিটি অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় ফুটবলকে "অপেশাদার বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ" হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয় এবং এই প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। যার ফলে ১৯২০ সালের গ্রীষ্ম অলিম্পিকে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম আন্তমহাদেশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় মিশর ও তেরটি ইউরোপের দল। এই প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ জিতে বেলজিয়াম। ১৯২৮ সালের ২৬ মে আমস্টার্ডাম সভায় তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে অলিম্পিক থেকে আলাদা স্বতন্ত্র প্রতিযোগিতা আয়োজনের ঘোষণা দেন। ইতালি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও উরুগুয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করে। ফিফা ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের বাইরে আলাদাভাবে নিজস্ব আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফিফা ১৯২৯ সালে স্পেনের বার্সেলোনা সেমিনারে উরুগুয়েকে ১৯২৪ ও ১৯২৮ গ্রীষ্ম অলিম্পিকে ফুটবল শিরোপা জয় করা ও উরুগুয়ের স্বাধীনতার শতবর্ষে পা দেওয়ার উপলক্ষে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয় । এভাবে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু হয়। নির্বাচিত বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে এতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ আয়োজন করার ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সফরে আসতে হবে। এজন্য কোনো ইউরোপীয় দেশই প্রতিযোগিতা শুরুর দুইমাস আগেও দল পাঠাতে রাজি হয়নি।যার ফলে তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া, ও যুগোস্লাভিয়া থেকে দল আনাতে সক্ষম হন। মোট ১৩টি দেশ এতে অংশ নেয়। উত্তর আমেরিকা থেকে দু’টি, ইউরোপ থেকে দু’টি ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সাতটি 


প্রথম বিশ্বকাপ

১৯৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল প্রথম অনুষ্ঠিত কোন ফুটবল বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপের সময়কাল  ছিলো ১৩ থেকে জুলাই ৩০ পর্যন্ত। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দুটি ম্যাচই ছিল বিশ্বকাপের প্রথম দুটি খেলা । আর দুটি খেলা অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্স ও ।মেক্সিকোর মধ্যে যাতে ৪-১ গোলে ফ্রান্স জয়ী হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যে যাতে ৩-০ গোলে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়। ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত প্রথম বিশ্বকাপ গোল করার মর্যাদা অর্জন করেন ।

অংশগ্রহণকারী

প্রথম বিশ্বকাপই হল একমাত্র বিশ্বকাপ যেখানে ছিল না কোনো রকম বাছাইপর্ব। ফিফার সকল সহযোগী দেশকেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য আহবান জানানো হয়েছিল। ১৯৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমন্ত্রণ গ্রহণের শেষ দিন ধার্য করা হয়। এতে আমেরিকা অঞ্চলের ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পেরু, প্যারাগুয়ে, চিলি, বলিভিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সময়মত নিবন্ধন করলেও আটলান্টিকের অপর পারের কোন ইউরোপীয়ান দেশ নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন করেনি। আর এমনটা করার মুল কারণ ছিলো আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল ভ্রমণের খরচা। প্রতিযোগিতা শুরুর দুইমাস আগে পর্যন্ত ইউরোপের কোন দেশ আনুষ্ঠানিক ভাবে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়নি। যার ফলে ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে ও উরুগুয়ের সরকার শেষ চেষ্টা হিসেবে অংশগ্রহণের বিনিময়ে ইউরোপীয় দলগুলির যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের প্রস্তাব দেন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত চারটি ইউরোপীয়ান দেশ অংশগ্রহণে সম্মত হয়: বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া, ও যুগোস্লাভিয়া। 


স্টেডিয়ামসমূহ

প্রতিযোগিতার সবগুলো খেলা অনুষ্ঠিত করা হয়েছিল মোন্তেবিদেও শহরে। এখানে স্টেডিয়াম ব্যবহৃত হয়েছিল তিনটি: এস্তাদিও পারেক সেন্ট্রাল, এস্তাদিও পোসিতস, এস্তাদিও সেন্তেনারিও । এস্তাদিও সেন্তেনারিও ১০০,০০০ দর্শক ধারনক্ষমতার এই স্টেডিয়াম ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার জন্য এবং উরুগুয়ের স্বাধীনতার শতবর্ষ উপলক্ষে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এটিই ছিল প্রতিযোগিতার প্রধান স্টেডিয়াম । যাকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে "ফুটবলের মন্দির" ("temple of football") বলে উল্লেখ করেছেন। এই স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার মোট ১৮টি খেলার মধ্যে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল সহ মোট ১০টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্মাণ কাজ ধিরে চলার কারণে ও বর্ষা মৌসুমের কারণে প্রতিযোগিতার মাত্র ৫ দিন আগে স্টেডিয়ামটি খেলার বা ব্যবহারের উপযোগী হয়েছিল।


ফাইনাল



১৯২৮ সালের অলিম্পিকের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটে এই বিশ্বকাপের ফাইনালেও । কারণ সেই বিশ্বকাপেও ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। এস্তাদিও সেন্তেনারিওতে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয় জুলাই ৩০ তারিখে। খেলা শুরুর ৬ ঘণ্টা আগে ঠিক আট টার সময় স্টেডিয়াম উনমুক্ত করে দেয়া হয়। দুপুরের আগেই স্টেডিয়াম কানাই কানাই পূর্ণ হয়ে যায়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ৯৩,০০০ দর্শক স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসেন। খেলা শুরুর পূর্বেই কার বল দিয়ে খেলা হবে সে বিষয় নিয়ে দুই দরের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। শেষ পর্যন্ত ফিফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রথম অর্ধে আর্জেন্টিনার বল ও দ্বিতীয় অর্ধে উরুগুয়ের বল দিয়ে খেলা হবে। প্রথম অর্ধে উরুগুয়ে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় এবং প্রথম বিশ্বকাপ বিজয়ী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে "বিশ্বকাপ ট্রফি" প্রদান করেন। পরে এই ট্রফির নাম রাখা হয় "জুলে রিমে ট্রফি"।বিশ্বকাপ জেতার পরের দিন উরুগুয়েতে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেস উরুগুয়ের দূতাবাসে উম্মত্ত জনতা পাথর নিক্ষেপ করেন।

আরও দেখুন : ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ  ট্রফির অজানা সব নাটকীয় ও বর্ণিল ইতিহাস

আরও দেখুন : স্বপ্ন পূরণ হলো  লেওয়ানডস্কির । লেওয়ানডস্কি এখন বার্সেলোনার

উল্লেখ্য

১৯৩৪ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী কোন ব্যবস্থা না থাকায় এই বিশ্বকাপে এ ধরনের কোন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে কোন কোন সূত্র বলে, বিশেষ করে ১৯৮৪ সালের একটি ফিফা বুলেটিন অনুযায়ী একটি ম্যাচ হয়েছিল যাতে যুগোশ্লাভিয়া ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলো। তবে এর সত্যতা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য কখনো যাচাই করা হয়নি ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ